জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করা হলেও ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর লড়াই অব্যাহত থাকবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির মূল লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় দলটি এখন জোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। শুরু থেকেই দলটি যে প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল, সেই লক্ষ্য থেকেই তারা সরে আসেনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে জনগণ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এমন এক নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার কথা বলেন তিনি, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে, গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকলেও পুরোপুরি নতুন সংবিধান প্রণয়ন সম্ভব হয়নি। কমিশনের মাধ্যমে কিছু সংস্কারে সমঝোতা হলেও পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তাই নতুন বন্দোবস্তকে তারা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রাম হিসেবে দেখছেন।
জোটে অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এটি মূলত একটি নির্বাচনী জোট এবং কিছু ন্যূনতম রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত। জোটে থেকেও এনসিপি তাদের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এ কারণে দলটি আলাদা ইশতেহার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান ঘটেছে। তারুণ্য ও নাগরিক মর্যাদা এনসিপির প্রধান এজেন্ডা। মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আধিপত্যবাদ মোকাবিলার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী অর্থনীতি ও রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা। ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভা ও সংসদে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে—তা তাদের ইশতেহারে চিহ্নিত করা হয়েছে।